
বাংলাদেশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি গোষ্ঠী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতীয়দের উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে বিদেশ থেকে অর্থায়ন করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। ভারতের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইয়ের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) পশ্চিমবঙ্গের নিউ টাউনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে দিলীপ ঘোষ বলেন, ভারতের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিকভাবে তৎপরতা চালানোর চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া দিল্লি থেকে কলকাতায় অর্থ পাঠানো হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
দিলীপ ঘোষ বলেন, বাংলাদেশে এমন কিছু গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে ভারতের বিরোধিতা করে আসছে। ভারতের ভেতরেও কয়েকটি গোষ্ঠীর সঙ্গে তাদের যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি ছড়ানোর পাশাপাশি দেশজুড়ে ধারাবাহিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার চেষ্টা চলছে। এসব তৎপরতায় বিদেশ থেকে অর্থ আসছে এবং দিল্লি থেকে কলকাতায়ও অর্থ পাঠানো হচ্ছে।
বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রতি সমর্থন জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের এই মন্ত্রী বলেন, তাঁরা চান বাংলাদেশ এগিয়ে যাক। তবে দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশের মানুষের পাশে ভারত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলনকে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ ‘সরকার পরিবর্তনের লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করার পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেই দিলীপ ঘোষের এ মন্তব্য সামনে এলো।
এর আগে শনিবার ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায়েই দেশটির গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা নির্ধারিত হয়। অসাংবিধানিক উপায়ে রাজনৈতিক পরিবর্তন চাপিয়ে দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরোধিতা করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে রিজিজু অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও আন্দোলনকারীরা রাজপথের বিক্ষোভকে ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। একই পোস্টে তিনি ভারতের তরুণদের দেশ গঠনে মনোযোগী থাকার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেস ও তাদের মিত্ররা দিল্লিতে তরুণদের নেতৃত্বে চলা বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে এবং বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে।
তবে বাংলাদেশ-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর উসকানি ও অর্থায়ন নিয়ে দিলীপ ঘোষের এসব অভিযোগের পক্ষে প্রতিবেদনে কোনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ উল্লেখ করা হয়নি।