যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ইউক্রেনে বাংলাদেশি জাহাজে হামলায় প্রকৌশলী হাদিসুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে ঢাকাস্থ রুশ দূতাবাস। বৃহস্পতিবার দুপুরে দূতাবাসের ফেইসবুক পেইজে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
এতে আরও জানানো হয়েছে, ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে আটকে পড়া জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধিকে বন্দর থেকে নিরাপদে বেরিয়ে যেতে সব ধরনের চেষ্টা করছে রাশিয়া।
বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, ইউক্রেনীয়রাই সেদেশে আটকে পড়া লোকজনকে ধরে নিয়ে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে এবং তাদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে।
এছাড়া দূতাবাসের ফেসবুক পেইজে জাহাজে হামলার ১০ সেকেন্ডের ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করা হয় এই ভিডিওটি একজন ইউক্রেনীয়র ধারণ করা।
রুশ দূতাবাস জানিয়েছে, যুদ্ধাবস্থা থেকে বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে কিংবা যেকোনো মানবিক সমস্যা সমাধানে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কিছু হটলাইন চালু করেছে।
গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এমভি বাংলার সমৃদ্ধি জাহাজটি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দর জলসীমায় নোঙর করে। পরদিন রাশিয়ার হামলা শুরু হলে জাহাজটি আটকা পড়ে।
বাংলাদেশের পতাকাবাহী ও রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বিএসসির জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধি রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর আগে ইউক্রেইনের ওলভিয়া বন্দরে গিয়েছিল। ওই জাহাজে ২৯ বাংলাদেশি নাবিক ছিলেন।
যুদ্ধ শুরু হলে সাধারণ পণ্যবাহী (বাল্ক ক্যারিয়ার) জাহাজটি ওই বন্দরে আটকা পড়ে।
গত ২৬ জানুয়ারি ভারতের মুম্বাই বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলার সমৃদ্ধি। তুরস্কের একটি বন্দরে পণ্য খালাস করে এটি যায় ইউক্রেইনে।
২২ ফেব্রুয়ারি ওলভিয়া বন্দরে পৌঁছায় জাহাজটি। কয়েকদিন পরেই সিমেন্ট ক্লে নিয়ে এটির ইতালির রোভেনা বন্দরের উদ্দেশে যাত্রার কথা ছিল। তবে যুদ্ধের কারণে পরিস্থিতি বদলে যায়। সমুদ্রগামী জাহাজ বাংলার সমৃদ্ধি ২০১৮ সালে বিএসসির বহরে যুক্ত হয়।