1. ashiqnur96@gmail.com : editor :
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সৌদির মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, বিচারপ্রক্রিয়া এবং কনস্যুলার সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন রাজশাহীতে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দুপুরে মেয়েকে দাফন, এক ঘণ্টা পর উদ্ধার ছেলের মরদেহ ইশরাকের পদত্যাগের নির্দেশের খবর ‘গুজব’, দাবি প্রতিমন্ত্রীর ইশরাকের অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা তদন্ত করছে পুলিশ কলকাতার পূজামণ্ডপে হুড়োহুড়ি, ১৮ জনের মৃত্যুর খবর ঢাকা থেকে সৌদিগামী ১১৪ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ১৭ হাজারের বেশি যাত্রী সোনারগাঁয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযান, ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২২ আড়াইহাজারে বস্তাবন্দি যুবকের মরদেহ উদ্ধার, স্ত্রী আটক রাজধানীর ভাটারা থানার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে কিশোরী নিখোঁজ, থানায় জিডি

সৌদির মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, বিচারপ্রক্রিয়া এবং কনস্যুলার সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন

  • সর্বশেষ আপডেট : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সৌদি আরবের মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় তাঁদের আটকের সময়, বিচারপ্রক্রিয়া এবং কনস্যুলার সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকার জানিয়েছে, ২০২৩ সালে তাঁদের আটক করা হয়েছিল। তবে কী অভিযোগে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তা জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রায়ের কপি পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে বাংলাদেশ।

 

সোমবার (১৯ অক্টোবর) পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তাঁদের নাম কারাগার থেকে পাঠানো তালিকায় রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

এর আগে গত বুধবার সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যমে এক বাংলাদেশি নারী ও এক পুরুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশিত হয়। তবে এ বিষয়ে দুই দেশের সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করেনি।

 

পরিবারের দাবি, মৃত্যুদণ্ডের কথা জানতেন না নজরুল

 

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া পুরুষ বাংলাদেশির নাম নজরুল ইসলাম বলে দাবি করেছে তাঁর পরিবার। তাঁর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে।

 

নজরুলের মা রহিমা বেগমের ভাষ্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের আগের রোববারও ছেলের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়েছিল। তখনও তিনি এমন কোনো পরিণতির আশঙ্কার কথা জানাননি। বুধবার সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর অন্যদের কাছ থেকে তাঁরা বিষয়টি জানতে পারেন।

 

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, মাদরাসা থেকে দাখিল পাসের পর ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবে যান নজরুল। সেখানে রিয়াদে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন তিনি। সৌদি আরবে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর ২০২৩ সালে তাঁকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন তাঁর মা।

 

রহিমা বেগমের দাবি, আটকের প্রায় এক মাস পর ছেলের সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ হয়। এরপর প্রায় প্রতি সপ্তাহেই তাঁদের কথা হতো। ছেলে তাঁকে বলেছিলেন, তাঁকে জেলে রেখে পরে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে তিনি আশা করছেন।

 

পরিবারের দাবি, একদিন কাজে যাওয়ার পর পুলিশের গাড়িতে করে নজরুলকে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কী অভিযোগে তাঁকে আটক করা হয়েছিল, সে বিষয়ে পরিবারকে বিস্তারিত জানাননি তিনি। পরিবারের আরেক সদস্যের ভাষ্য অনুযায়ী, শেষ দিকে নজরুল অভিযুক্ত নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকার কথা জানিয়েছিলেন। এসব অভিযোগ ও ঘটনার প্রকৃত বিবরণ সৌদি কর্তৃপক্ষের নথি ছাড়া স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

 

নজরুলের মৃত্যুদণ্ডের খবর পাওয়ার পর তাঁর পরিবার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। তবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তিদের একজন নজরুল কি না, সে বিষয়ে তাঁরা তখনো সরকারি তথ্য পাননি।

 

সুইটি আক্তারের পরিচয় নিয়েও অস্পষ্টতা

 

মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া বাংলাদেশি নারী সুইটি আক্তারের পরিচয় ও স্থায়ী ঠিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সোমবার বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই বাংলাদেশির একজন অভিবাসী শ্রমিক এবং অন্যজন ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সুইটির বাড়ি বগুড়া জেলায়।

 

কনস্যুলার সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন

 

দুই বাংলাদেশির আটকের পর তাঁদের আইনি সহায়তা ও কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ দূতাবাস কী পদক্ষেপ নিয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

 

যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ড. রায়হান রশীদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, বিদেশে কোনো নাগরিক গ্রেপ্তার হলে তাঁর নিজ দেশের দূতাবাসের কনস্যুলার সহায়তা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। এ ক্ষেত্রে আটকের পরপরই সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের খোঁজ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।

 

তিনি ১৯৬৩ সালের কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশনের ৩৬ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে বিদেশে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কনস্যুলার যোগাযোগের অধিকারের কথা উল্লেখ করেন।

 

তবে এই দুই বাংলাদেশি আটক হওয়ার পর দূতাবাসের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ হয়েছিল কি না, তাঁরা আইনজীবীর সহায়তা পেয়েছিলেন কি না কিংবা রায়ের বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

 

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার। সেখানে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে রায়ের কপি ও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া গেলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কারণ এবং বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

আপনি সংবাদটি শেয়ার করুন

Comments are closed.

এই বিভাগের আরো সংবাদ
    © ২০২৪ বুড়িগঙ্গা টিভি কর্তৃক সর্বসত্ব সংরক্ষিত।
 
Theme Customized By BreakingNews