
‘এখানে কোনো ইসরাইলি পণ্য বিক্রি করা হয় না’—এমন সাইনবোর্ড ঘিরে আলোচনায় এসেছে উত্তর আয়ারল্যান্ডের ওয়েস্ট বেলফাস্ট। ইসরাইলি পণ্য বর্জনের প্রচারে স্থানীয় স্বাধীন খুচরা দোকানগুলোতে এমন বার্তা প্রদর্শনের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
‘ইসরাইলি গুডস ফ্রি জোন’ বা ইসরাইলি পণ্যমুক্ত এলাকা নামে পরিচিত এই উদ্যোগের সূচনা হয় আয়ারল্যান্ডের সমাজতান্ত্রিক রিপাবলিকান সংগঠন ‘লাসাইর ডিয়ার্গ’-এর ব্যানারে। সংগঠনটির দাবি, স্থানীয় পর্যায়ে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ত করে ইসরাইলি পণ্যের বাণিজ্যিক বর্জনই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
২০২১ সালের নভেম্বরে শুরু হওয়া এই বয়কট কর্মসূচি ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় সংঘাত শুরুর পর নতুন করে গতি পায়। এর ধারাবাহিকতায় ওয়েস্ট বেলফাস্টের বিভিন্ন এলাকার স্বাধীন দোকানগুলো নিজেদের ইসরাইলি পণ্যমুক্ত হিসেবে ঘোষণা করতে শুরু করে।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ কর্মসূচির লক্ষ্য মূলত যেসব পণ্যের গায়ে স্পষ্টভাবে ‘মেড ইন ইসরাইল’ লেখা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের বেবি ওয়াইপস, চুলের প্রসাধনসামগ্রী, ইসরাইল থেকে আমদানি করা খেজুর, অ্যাভোকাডো ও ক্যাপসিকামের মতো পণ্য।
ওয়েস্ট বেলফাস্টের পোলগ্লাস, টুইনব্রুক, ল্যাগমোর, মাউন্ট ঈগলস, লেনাদুন, গ্লেনকলিন ও রক স্ট্রিটসহ বিভিন্ন এলাকায় ছোট-বড় স্বাধীন দোকান এ উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে বলে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন।
এদিকে ছোট দোকানের বাইরেও বড় সুপারমার্কেট চেইনগুলোতে ইসরাইলি পণ্য বর্জনের প্রচার চালাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা। সেইন্সবারিস, হোম বার্গেনস, আসডা ও টেসকোর মতো প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পণ্যে বয়কট স্টিকার লাগানো এবং তাক থেকে সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন বিডিএস বেলফাস্টের কর্মীরা। পাশাপাশি ইসরাইল থেকে পণ্য আমদানি বন্ধের দাবিও জানাচ্ছেন তারা।
আন্দোলনটি খুচরা বিক্রেতাদের পাশাপাশি শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যের টেসকোর এক কর্মীর চাকরিচ্যুতির ঘটনা উঠে আসে। কর্মস্থলে ইসরাইলি পণ্য বিক্রি ও ব্যবস্থাপনার কাজে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় ট্রেড ইউনিয়নগুলো প্রতিবাদ জানিয়ে তার পুনর্বহালের দাবি তোলে।
স্থানীয় দোকান থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এখন ইসরাইলি পণ্য বর্জনকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর সামাজিক ও বাণিজ্যিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে। তবে আন্দোলনের বিস্তার ও এর প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান এবং তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।