
তাদের পেশা দিনে রিকশা চালনো,রাতে ডাকতি করা! তাদের টার্গেট থাকত কোথায় কোথায় নির্মানাধীন নতুন বাড়ির কাজ চলছে। রাত হলে তাদের টার্গেট অনুযায়ী নির্মানাধীন বিল্ডিং বা বাড়ির সিকিউরিটির হাত পা বেধেঁ জিম্মি করে রড চুরি বা ডাকাতি করত তারা। এমন একটি সংঙ্গবদ্ধ ডাকাত দলের ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকার দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানা ও কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পুলিশের এক চৌকস টিম।
শুক্রবার সকালে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম) আমিনুল ইসলাম দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এমন তথ্য জানান।

তিনি জানান, চক্রের সদস্যরা দিনে রিকশা চালিয়ে নিমার্নাধীন বাড়ির কাজ কোথায় হচ্ছে সেটা খুেঁজ বেড়াতো। রাত হলে তাদের টার্গেট অনুযায়ী নির্মানাধীন বিল্ডিং এর সিকিউরিটির হাত পা বেধেঁ জিম্মি করে রড চুরি বা ডাকাতি করত। গত ৪ আগষ্ট রাতে দক্ষিন কেরানীগঞ্জ বসুন্ধরা রিভার ভিউ এলাকায় নিমার্নাধীন বাড়ির সিকিউরিটিকে হাত পা বেধে ৩ লক্ষ ১১ হাজার পাচশত টাকা মূল্যেও ৩ টন রড, ২০ আগষ্ট একটি নিমার্নাধীন বাড়ি থেকে একই ভাবে হাতপা বেধে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৫ টন রড ডাকাতি করে নিয়ে যায়। এছাড়া কেরানীগঞ্জ মডেল থানার মধু সিটি—১ এলাকা থেকে একটি নির্মানাধীন ভবনের কেয়ারটেকারকে বেধে ৫ লক্ষ ৩৩ হাজার টাকা মূল্যের ৬ টন রড ডাকাতি করে নেয়। এ বিষয় সংশ্লিষ্ট থানায় রড ডাকাতির তিনটি মামলা হয়। এরপর মামলার রহস্য উদঘটন করতে মাঠে নামে পুলিশের একটি চৌকস টিম। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় উপজেলার চুনকুটিয়া এলাকা থেকে প্রথমে ডাকাত সর্দার মফিজকে গ্রেপ্তার করা হলে তার দেয়া তথ্যে ইমন ও রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর ইমন ও রাসেলের দেয়া তথ্য মতে ঢাকার খিলগাঁও,নারায়ণগঞ্জ ও কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চক্রের মোট ১২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত ২ টি ট্রাক জব্দ, লুন্ঠিত ৫টন রড উদ্ধার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাব উদ্দিন কবির ,দক্ষিন কেরানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ শাহ জামান,কেরানীগঞ্জ মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশিদ মামুন।