
স্পোর্টস ডেস্ক
সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আগেই ট্রফি নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। মিরপুরে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে লক্ষ্য ছিল অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করা। তবে কুপার কনোলির দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি টাইগারদের। রোমাঞ্চে ভরা ম্যাচে ১ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছে সফরকারীরা।
রোববার শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ২৭৪ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ৪৯.৩ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া।
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ইনিংসের চতুর্থ বলেই ২ রান করে আউট হন সৌম্য সরকার। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম দ্বিতীয় উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়লেও কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। শান্ত ২৪ এবং তামিম ১৯ রান করে বিদায় নেন।
৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বাংলাদেশকে উদ্ধার করেন তাওহীদ হৃদয় ও লিটন দাস। চতুর্থ উইকেটে তাদের ৯২ রানের জুটি দলের ভিত গড়ে দেয়। ব্যক্তিগত ৪৮ রানে পায়ে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন লিটন। এরপর হৃদয়ের সঙ্গে যোগ দেন মোসাদ্দেক হোসেন, আর দুজন মিলে পঞ্চম উইকেটে যোগ করেন আরও ৯৩ রান।
হৃদয় ৮৮ বলে ৮৩ রানের দারুণ ইনিংস খেলে আউট হলেও শেষ দিকে ফিরে এসে লিটন ইনিংসকে এগিয়ে নেন। ১১ বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো মিরপুরে ফিফটির দেখা পান তিনি। ৭৮ বলে ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন লিটন। অন্যপ্রান্তে মোসাদ্দেকও খেলেন দায়িত্বশীল ইনিংস, ৫১ বলে ৫৬ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।
২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ৭০ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা। তবে ওপেনার কুপার কনোলি একপ্রান্ত আগলে রেখে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেন।
ক্যামেরন গ্রিন ২৭, মারনাস লাবুশেন ২৯ এবং অলিভার পিকে ২৭ রান করে ফিরলেও কনোলি ছিলেন অবিচল। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে তিনি ১৪৯ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস খেলেন এবং দলকে জয়ের খুব কাছে পৌঁছে দেন।
তবে শেষদিকে নাটকীয়ভাবে ম্যাচে ফিরে আসে বাংলাদেশ। শেষ ৫ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল মাত্র ৯ রান, কিন্তু সেই রান তুলতেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। একসময় ম্যাচ এমন অবস্থায় পৌঁছে যায়, যেখানে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১ উইকেট, আর অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ৩ রান।
রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত স্নায়ুচাপ সামলে ১ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে অস্ট্রেলিয়া।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে উজ্জ্বল ছিলেন শরিফুল ইসলাম। ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়ে শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেট শিকার করেন এই বাঁহাতি পেসার। এছাড়া তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান ও শেখ মেহেদী হাসান একটি করে উইকেট নেন।
যদিও শেষ ম্যাচে হারতে হয়েছে, তবু ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।