
নাইক্ষ্যংছড়ি সংবাদদাতা:
বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী পার্বত্য জেলা বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। উপজেলার তিনটি পূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে পালনের লক্ষ্যে বিজিবি ও পুলিশ প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
উপজেলার পূজামণ্ডপ তিনটি হলো—নাইক্ষ্যংছড়ি সদরের সার্বজনীন হরি মন্দির, দক্ষিণ বাইশারী শ্রীশ্রী হরি মন্দির এবং তুমব্রু বাজার শ্রীশ্রী দুর্গামন্দির।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দক্ষিণ বাইশারীর পূজামণ্ডপের নিরাপত্তাব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির।
এ সময় তিনি নাইক্ষ্যংছড়িকে পাহাড়ি ও বাঙালির সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও স্বাভাবিক থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
অন্যদিকে, ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এসএম মো. খাইরুল আলম জানান, তাঁর অধীনস্থ সীমান্ত এলাকার তুমব্রু বাজারের দুর্গাপূজামণ্ডপেও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, উপজেলার তিনটি পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সার্বক্ষণিক মাঠে রয়েছে।
এদিকে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। উৎসবের বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শেষে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব শেষ হবে।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতা ও পূজা কমিটির উপদেষ্টা লক্ষ্মণ কান্তি দে বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। পূজা উদ্যাপনের পরিবেশও যথাযথ রয়েছে।
সীমান্তবর্তী এ উপজেলায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব উদ্যাপনের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
মাঈনুদ্দিন খালেদ/ বার্তা প্রেরক