
মাদারীপুর :
দুই পায়ে চলার শক্তি নেই। লাঠিতে ভর দিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে ভিক্ষা করে চলে জীবন। কেউ দেন পাঁচ টাকা, কেউ দশ টাকা। কখনো জোটে দুমুঠো খাবার, আবার কখনো কাটে অনাহারে। এভাবেই কষ্ট করে জমিয়েছিলেন কিছু চাল ও সামান্য টাকা। কিন্তু দুর্বৃত্তদের চুরিতে হারিয়েছেন সেই শেষ সম্বলটুকুও। মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার অসহায় প্রতিবন্ধী আব্দুল জলিলের এমন দুর্দশার খবর পেয়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন।
সম্প্রতি মাদারীপুর-৩ (কালকিনি-ডাসার) আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন জলিলের বাড়িতে গিয়ে তাঁর খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি জলিলকে আর্থিক সহায়তা ও চালসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী দেন। পাশাপাশি তাঁর বসবাসের কুঁড়েঘরটি পাকা করে দেওয়ার আশ্বাসও দেন।
আব্দুল জলিল মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কালাই সরদারের চর বেপারীকান্দির বেপারীবাড়ি এলাকায় একটি ছোট কুঁড়েঘরে বসবাস করেন। দীর্ঘ ৮ থেকে ১০ বছর ধরে শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে লাঠিতে ভর দিয়ে চলাফেরা করেন তিনি। শারীরিক ও বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী জলিলের আপনজন বলতে রয়েছেন এক বোন। তিনি এসে রান্না করে খাইয়ে যান। বাকি সময় একাই জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয় জলিলকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে রাতে জলিল ঘরে একা ঘুমিয়ে ছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা ঘরের সামনের দরজায় তালা লাগিয়ে পেছনের অংশে সিঁধ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে ঘরে থাকা চাল ও জমানো সামান্য টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
সকালে ঘুম থেকে উঠে চুরির ঘটনা টের পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন জলিল। ভিক্ষা করে জমানো চাল ছিল কয়েক দিনের খাবারের ভরসা, আর সামান্য টাকা ছিল তাঁর অনিশ্চিত জীবনের শেষ সম্বল। সব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তিনি।
এলাকাবাসীর মতে, এমন অসহায় একজন মানুষের সামান্য সম্পদ চুরি করে নেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত অমানবিক। যিনি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, তাঁর পাশে দাঁড়ানো সমাজের সবার দায়িত্ব।
জলিলের দুর্দশার খবর পেয়ে সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন তাঁর পাশে দাঁড়ানোয় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর ঘর পাকা করে দেওয়ার আশ্বাস বাস্তবায়িত হলে নিরাপদে বসবাসের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।