
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা):
‘বাঁচাও, বাঁচাও’—কারখানার ভেতর থেকে ভেসে আসছিল বাঁচার আকুতি। কিছুক্ষণ আগেও শোনা যাচ্ছিল সেই চিৎকার। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে থেমে যায় সব শব্দ। ফায়ার সার্ভিসকর্মী ও সহকর্মীদের প্রাণপণ চেষ্টা চলছিল তাকে উদ্ধারের। শেষ পর্যন্ত বের করে আনা হলো সাকিবকে, তবে জীবিত নয়—নিথর দেহ হয়ে।
বয়স মাত্র ১৮ থেকে ২০ বছর। সোমবার দুপুরে কেরানীগঞ্জের নেক্রোস বাগ এলাকায় এস এস টয় ফ্যাক্টরিতে ভয়াবহ আগুনে প্রাণ হারালেন তরুণ শ্রমিক সাকিব। একই ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন মানিক নামে আরেক শ্রমিক। সাকিবের মৃত্যুর খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।
কারখানাটিতে আগুন লাগার সময় কাজ করছিলেন ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক। অন্যরা বের হতে পারলেও ভেতরে আটকা পড়েন সাকিব ও মানিক। একপর্যায়ে মানিককে বের করে আনা সম্ভব হলেও তার শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয়েছে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে।
এদিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের সঙ্গে কাজ করেন কারখানার অন্য শ্রমিকরাও। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে ততক্ষণে প্রাণ হারিয়েছেন সাকিব।
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারখানাটিতে শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। ফলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কারখানার অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
একটি আগুন কেড়ে নিল তরুণ সাকিবের প্রাণ, আর গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে লড়ছেন মানিক। পরিবারের স্বপ্ন আর জীবিকার তাগিদে কাজে যাওয়া এই শ্রমিকদের জীবনে নেমে এলো মর্মান্তিক পরিণতি।