
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বিন্যান্সে বড় ধরনের সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ওয়ালেট থেকে প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ সরিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। এ ঘটনায় ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রকাশিত ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিন্যান্সের ডেভঅপস বিভাগের এক প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক করে হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানের সার্ভিস কনটেইনারে প্রবেশের সুযোগ পায়। পরে সেখান থেকে অননুমোদিত অর্থ স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে কোনো ওয়ালেটের প্রাইভেট কি ফাঁস হয়নি বলে জানিয়েছে বিন্যান্স।
ক্রিপ্টোকারেন্সি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম ল্যাবসের হিসাব অনুযায়ী, ১০টি ব্লকচেইনে বিন্যান্সের ওয়ালেট থেকে প্রায় ৬৩৬ কোটি ডলারের সম্পদ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর বেশির ভাগই স্থানান্তর করা হয় মাত্র ২০ মিনিটে।
তবে চুরি হওয়া সম্পদের একটি বড় অংশ উদ্ধারে উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো। বিন্যান্সের দাবি, প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্লকচেইনেই আটকে রাখা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া টেথার ১৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলারের USDT এবং সার্কেল ৮০ কোটির বেশি ডলারের USDC ফ্রিজ করেছে।
হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়াভিত্তিক হ্যাকার গোষ্ঠী ‘ট্রেডারট্রেইটর’ জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান চেইনঅ্যানালাইসিসের প্রাথমিক হিসাবে চুরির পরিমাণ প্রায় ৫৯০ কোটি ডলার। এই অঙ্ক ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাইবিট এক্সচেঞ্জে সংঘটিত ১৫০ কোটি ডলারের সাইবার হামলার তুলনায় প্রায় চার গুণ।
বিন্যান্স জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবহারকারীদের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানটির জরুরি সুরক্ষা তহবিল SAFU এবং নিজস্ব অর্থ ব্যবহার করা হবে। SAFU তহবিলে প্রায় ১৫ হাজার বিটকয়েন রয়েছে। তবে এই তহবিলের অর্থ দিয়ে পুরো ক্ষতি পূরণ সম্ভব না হলে বাকি অর্থ কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, চুরি হওয়া বিটকয়েনের কিছু অংশ নতুন ওয়ালেট ঠিকানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে এখনো সেগুলো কোনো ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বা মিক্সারে পাঠানো হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতে সাইবার হামলা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে থাকায় নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিন্যান্স জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অর্থ উত্তোলন কার্যক্রম স্বাভাবিক করার আশা করছে তারা। তবে গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনা এবং ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই এখন প্রতিষ্ঠানটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।