
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি:
ঢাকার কেরানীগঞ্জে জমি দখল ও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে বিএনপির ৯ নেতাকর্মী ও সমর্থকের বিরুদ্ধে মামলা করা তাজুল ইসলাম (৫১) কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার শরীফ পার্ক এলাকা থেকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করায় প্রতিশোধমূলকভাবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর স্ত্রী রুবিনা ইসলাম।
শুক্রবার বিকেলে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল কুদ্দুস জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলায় তাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। ওই মামলায় তাঁকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সমর্থক ও অর্থ জোগানদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে তিনি আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য বা কোনো পদে ছিলেন না বলে জানান ওসি। এ সময় তিনি তাজুলকে ‘দুষ্টু লোক’ বলেও মন্তব্য করেন।
তাজুলের স্ত্রী রুবিনা ইসলামের দাবি, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ওই মামলায় তাঁর স্বামীর নাম নেই। বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জমি দখল ও চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা এবং ওই মামলার এক আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রতিশোধ নিতে তাঁকে অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রভাবশালী একজন জনপ্রতিনিধির প্রভাবে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
রুবিনা ইসলাম বলেন, ‘আমরা যাতে তাঁদের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিই, সে জন্য পুলিশকে ব্যবহার করে অন্যায়ভাবে আমার স্বামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা পূর্বের মামলা ছাড়াই তাঁকে ধরে নিয়ে গিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।’
এর আগে গত ২ নভেম্বর বিকেলে কেরানীগঞ্জের খাড়াকান্দি বাজার এলাকা থেকে তাজুল ইসলামের দায়ের করা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি জাহাঙ্গীরকে (৩৭) গ্রেপ্তার করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১০ (এসআরবি-১০)। তিনি কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। পরদিন তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, কেরানীগঞ্জের তারানগর এলাকার বাসিন্দা তাজুল ইসলাম বাদী হয়ে জমি দখল ও ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে আদালতে মামলা করেন। এতে কলাতিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান আওয়াল শিকদারকে প্রধান আসামি করা হয়। মামলায় বিএনপির মোট ৯ নেতাকর্মী ও সমর্থককে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, খাড়াকান্দি এলাকায় তাজুল ইসলামের মালিকানাধীন জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করেন আসামিরা। একই সঙ্গে তাঁর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় আদালতের শরণাপন্ন হন তাজুল।
জাহাঙ্গীর গ্রেপ্তারের পর এসআরবি-১০ জানিয়েছিল, মামলার প্রধান আসামি আওয়াল শিকদারসহ বাকি আট আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।