
নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে তিন কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যটিতে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, পুলিশের ভূমিকা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আকাশ সরকার, সুরজিৎ শী ও শ্রীময়ী চক্রবর্তী। পশ্চিমবঙ্গের তথ্য যাচাইকারী সংস্থা অল্ট নিউজের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনজনের মধ্যে আকাশ সরকার গত ২৯ অক্টোবর তিন দিন পুলিশ হেফাজতে থাকার পর আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। আর শ্রীময়ী চক্রবর্তীকে গত ২৬ অক্টোবর বিধাননগর পূর্ব থানা ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি দেয়। তবে জনপ্রিয় ফেসবুক পেজ ‘কোর বাংলা জনগণঠা’র উপস্থাপক সুরজিৎ শী এখনো পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করা হয়েছে।
সুরজিতের বিরুদ্ধে অভিযোগ, দুর্গাপূজার সময় চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা এবং এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছিলেন।
ভারতীয় বিজ্ঞান ও যুক্তিবাদী সমিতির সদস্য সুরজিতের পরিবারের দাবি, তাকে গ্রেপ্তারের আগে স্থানীয় বিজেপি ও আরএসএস কর্মীরা তাদের বাড়িতে হামলা চালান। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। সুরজিতের আইনজীবী ও স্বজনদের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সাজানো মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে, পদপিষ্টের ঘটনা এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে উদ্দেশ করে কটাক্ষমূলক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে গত ২৫ অক্টোবর নাগেরবাজারের বাড়ি থেকে আকাশ সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। আকাশের দাবি, পূজামণ্ডপে বিশৃঙ্খলা ও প্রতিমা বিসর্জনে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলার কারণেই তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিন দিন পুলিশ হেফাজতে থাকার পর ২৯ অক্টোবর আদালত তাকে জামিন দেন।
অন্যদিকে, ‘তিন বাটি’ শিরোনামে রাজনৈতিক কটাক্ষ এবং মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পোস্ট দেওয়ার কারণে শ্রীময়ী চক্রবর্তীকে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়। পরে ২৬ অক্টোবর তাকে ব্যক্তিগত বন্ডে মুক্তি দেওয়া হয়।
তিন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের বিরুদ্ধে পুলিশের এমন পদক্ষেপের পর পশ্চিমবঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক সমালোচনা ও মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়ার কারণে কাউকে গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
সব মিলিয়ে, রাজনৈতিক বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের এ ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন ও নাগরিক অধিকারবিষয়ক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।