
নিজস্ব প্রতিবেদক
গাজীপুরের টঙ্গীর একটি আবাসিক মাদরাসায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক শিক্ষককে শিশুটির স্বজনদের মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, শিশুটির বাবার বিরুদ্ধে মাদরাসায় হামলা, ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা লুটের পাল্টা অভিযোগ তুলেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে শিশুটির বাবা বলেছেন, মেয়ের বিচার চাইতেই তিনি মাদরাসায় গিয়েছিলেন, কাউকে নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে নয়।
গত বুধবার (২১ অক্টোবর) টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার ক্বারিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, মাদরাসার শিক্ষক মোসলেম আহম্মদ শিশুটির সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, এর আগের সোমবার মাদরাসার নিচতলার সিঁড়িতে ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরিবারের ভাষ্য, ঘটনার পর শিশুটি মাদরাসায় যেতে অনীহা প্রকাশ করে। পরে মা-বাবা বিষয়টি জানতে চাইলে সে তাদের কাছে অভিযোগের কথা জানায়। এরপর বুধবার শিশুটির স্বজনেরা মাদরাসায় গিয়ে শিক্ষকের কাছে ঘটনার ব্যাখ্যা চান। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে সেখানে স্থানীয় লোকজন জড়ো হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ২৪ সেকেন্ডের ভিডিওতে কয়েকজনকে ওই শিক্ষককে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে দেখা যায়। কথোপকথনের একপর্যায়ে চুমুর প্রসঙ্গ ওঠার পর এক স্বজন শিক্ষককে থাপ্পড় মারেন। পরে অন্যরাও মারধরে যোগ দেন। প্রায় দুই মিনিট ২৯ সেকেন্ডের আরেকটি ভিডিওতে কয়েকজনকে শিক্ষককে মারধর করতে দেখা যায়। এ সময় উপস্থিত অন্যদের কয়েকজনকে তাঁকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতেও দেখা যায়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষককে উদ্ধার করে। শিশুটির বাবার দায়ের করা মামলায় শিক্ষককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হয়।
এদিকে, মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেন অভিযোগ করেছেন, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মীকে মারধর করে। এ সময় কার্যালয় ভাঙচুরের পাশাপাশি ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন নিয়ে যাওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় মাদরাসা কর্তৃপক্ষ পৃথক অভিযোগ দিয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিশুটির বাবা। তাঁর দাবি, সেখানে একটি ছোট কাচের গ্লাস ভেঙেছিল, তবে তা ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়নি। ১৭ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে তিনি মাদরাসার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর আরও দাবি, ঘটনার বিষয়ে তিনি আগেই অধ্যক্ষকে জানিয়েছিলেন, কিন্তু সেখান থেকে কার্যকর কোনো সাড়া পাননি।
শিশুটির বাবা নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন। টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এবং মাদরাসা কর্তৃপক্ষের হামলা, ভাঙচুর ও অর্থ লুটের পাল্টা অভিযোগ—দুটিই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে ঘটনার কিছু মুহূর্ত দেখা গেলেও, শুধু ভিডিওর ভিত্তিতে পুরো ঘটনার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।