
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে ইরানের একটি নতুন বিমান প্রতিরক্ষা সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্র বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল ফক্স নিউজের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এ তথ্য জানান।
ট্রাম্প বলেন, ইরান সেখানে একটি বিমান প্রতিরক্ষা ঘাঁটি তৈরি করেছিল। সেটি নির্মাণ শেষ হওয়ার পরপরই গত রাতে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে হামলা চালিয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি ছিল সীমিত পরিসরের একটি সামরিক অভিযান।
হামলার পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, তিনি অনেক মানুষকে হত্যা করতে চান না। তবে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।
এর আগে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ হামলার খবর প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের সম্ভাব্য হামলা প্রতিহত করা এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ওয়াশিংটন এ পদক্ষেপ নিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পরপর পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্বীপের আকাশে দুটি যুদ্ধবিমানও দেখতে পেয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে একই সাক্ষাৎকারে ইসরাইলকে দেওয়া মার্কিন আর্থিক সহায়তা বন্ধের বিষয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি জানান, ২০২৬ সালের শেষের পর ইসরাইলকে আর বার্ষিক অনুদান দিতে চায় না যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এ বিষয়ে তাঁর সমঝোতা হয়েছে। বর্তমানে ১০ বছর মেয়াদি নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় ২০২৮ সাল পর্যন্ত ইসরাইলের বছরে প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার মার্কিন সহায়তা পাওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা করে বছরে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা বন্ধের বিষয়ে তাঁরা একমত হয়েছেন। তবে ইসরাইলের প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করবে।
ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্পের এ বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা, ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নজর বাড়ছে।